বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি মনেপ্রাণে চান, অন্তর্বর্তী সরকার সফল হোক। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকালে এ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হয়।লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংস্কারসহ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। তারা এই মূল দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করবেন বলে আশা রাখি।’
‘এখন তারা এই কাজটি কতটুকু ভালভাবে বা মন্দভাবে করতে পারছে, তার ওপরে সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা নির্ভর করবে’, বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে এর আগে ‘জনমনে সন্দেহ রয়েছে’, এমন মন্তব্যের ব্যাখায় তারেক রহমান বলেন, ‘যখন জনগণের আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও এ সরকার নির্বাচনের টাইম ফ্রেম বা রেডম্যাপ (সময়সূচি) বলেনি, তখন শুধু আমাদের মধ্যে নয়, সবার মনেই তাদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।’
‘কিন্তু যখন তারা নির্বাচনের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তখন ধীরে ধীরে এ সন্দেহ চলে গেছে। সরকার তার কাজকর্মে যত দৃঢ়তার পরিচয় দেবে, ততই সন্দেহ চলে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তারেক রহমান জানান, নির্বাচনের বাইরে তার সাথে সৌজন্যমূলক বিভিন্ন কথা হয়েছে।
ইউনূসকে ‘অত্যন্ত বিজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানতে চান যে, নির্বাচনে জনগণ যদি তাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়, তাহলে তারা কী পদক্ষেপ নেবেন? জবাবে তারেক তাকে এ বিষয়ে দলের চিন্তা-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ব্যাখ্যা করেন।
গত এক বছরে এ সরকারের মূল্যায়নের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দেশ পরিচালনা করা একটি বিশাল ব্যাপার। ভূখণ্ডের দিক থেকে বাংলাদেশ হয়তো খুব ছোট দেশ। কিন্তু জনসংখ্যার বিচারে এটি ইউকের (ব্রিটেন) তিন গুণ বড়। এ রকম একটি দেশ পরিচালনার জন্য জনগণের ম্যান্ডেটসহ (সমর্থন) রাজনৈতিক দল প্রয়োজন।’
‘নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকারের সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, সবাই তো সব কাজে সফল হতে পারে না। তাদের নিশ্চয়ই কিছু লিমিটেশন (সীমাবদ্ধতা) আছে। সে লিমিটেশন নিয়েই তারা আন্তরিকভাবে সব কিছু করার চেষ্টা করছেন,’ বলেন তারেক।
এক-এগারোর সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি প্রথমে এক বাক্যে বলেন, ‘সেটি ছিল একটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরকার।’
ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ‘সে সময় বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, ভুল-ত্রুটির মধ্যে দিয়েই গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে উঠছিল। অথচ আমরা দেখেছি, সে সময় তারা কিভাবে সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল।’
‘পরবর্তীতে সে সরকারের ভিন্ন রূপও আমরা দেখেছি, ইন দ্য নেম অব ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্রের নামে),’ যোগ করেন তারেক।


