মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৪৫৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিমানবন্দর দুটি থেকে এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
মঙ্গলবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আকাশসীমা বন্ধের পর ধারাবাহিকভাবে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
এ ছাড়া ১০ মার্চ আরও ৩২ টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়।
এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার শারজাহগামী চারটি, গালফ এয়ারের বাহরাইনগামী চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী চারটি, জাজিরা এয়ারের কুয়েতগামী চারটি, ফ্লাইদুবাইয়ের সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী চারটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের (বাংলাদেশ) তিনটি এবং ইউএস বাংলার (বাংলাদেশ) তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ পর্যন্ত মোট ৯১টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহাসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
গত সোমবার এ বিমানবন্দর থেকে বাতিল হয়েছে ছয়টি ফ্লাইট। এদিন বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার দুইটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
তবে, একই দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামে এয়ার অ্যারাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কিছু ফ্লাইট আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে।
একই সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে দেশের বিমানবন্দর থেকে আরও কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।


