মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রমবাজার সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়া। এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে কাজ চলছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনগণকে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল খনন/পুনঃখনন কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখনন করবে।
‘এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা), টিআর (টেস্ট রিলিফ) এর মাধ্যমে ১৫০০ কিমি খাল পুনঃখনন/সংস্কার করা হবে। আমাদের পরিকল্পনা হলো আগামী ৫ বছরে সর্বমোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখনন করা।’
এছাড়া পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির কমিটমেন্ট হচ্ছে এই দেশের মানুষের প্রতি, এই বাংলাদেশের প্রতি। সেজন্যই আমাদের যে নির্বাচনি ইশতেহার ছিলো সেখানে যেরকম আমরা শিল্পোদ্যোক্তা যারা আছেন তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষ, বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ, ওয়ার্কিং ক্লাস বা খেটে খাওয়া মানুষ তারা কিভাবে ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রা মান উন্নয়ন করতে পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি, আমরা বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।’


