দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলামকে পৃথক দুটি মামলায় মোট ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী ও বাবাকেও পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত একই সঙ্গে আসামিদের ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার বাদী ও দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক শহীদুল আলম সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চরদমদমা এলাকার বাসিন্দা ও কামারখন্দ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক এবং স্ত্রী ডলি বেগম। তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মধ্যে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক বাড়ি নির্মাণ করেন। আর স্ত্রী ডলি বেগম ৬০ লাখ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মনিরুল ইসলামকে একটি মামলায় পাঁচ বছর এবং অন্য মামলায় পাঁচ বছরসহ মোট ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তার বাবা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী ডলি বেগমকে পৃথকভাবে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মলয় কুমার দাস এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন রেজাউল করিম পলাশ।


