সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কাতারের আমির, সৌদি আরবের যুবরাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বিশেষ অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর পূর্বপরিকল্পিত একটি সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, দেশগুলোর নেতারা তাকে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা চলছে ও একটি কূটনৈতিক সমাধানের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণাঙ্গ ও বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ঘোষণা ও চরম হুঁশিয়ারির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের আগ্রাসন বা হামলার দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান তার সর্বশক্তি দিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তা মোকাবিলা করবে।
তেহরান জানিয়েছে, যেকোনো সামরিক আগ্রাসন নস্যাৎ করতে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। এর জবাবে ইরানও মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়।
পরবর্তীতে গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো শান্তি চুক্তি স্থাপন সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের একটি ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে, যা নিয়ে এই মুহূর্তে ব্যাকচ্যানেল বা অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
তবে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ সীমিত করার শর্ত চাপানোয় দীর্ঘদিনের এই সংকট কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে এক জটিল মোড় নিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা


