জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভোটের আবহ তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠ প্রশাসনসহ পাঁচটি বিশেষ সমন্বয় ও তদারকি কমিটি গঠন করেছে ইসি।
বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
চারজন নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে এই কমিটিগুলো কাজ করবে। প্রতিটি কমিটিতে একজন কমিশনারের নেতৃত্বে সাতজন সদস্য কাজ করবেন।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আলাদা অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে আছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ; তিনি একই সঙ্গে প্রবাসী ভোট ও দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক সমন্বয় কমিটির দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনি আইন বিধি প্রবিধি বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
মাঠ প্রশাসন সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
এ ছাড়া নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচন কমিশনার তহমিদা আহমদ।
১. আইনশৃঙ্খলা কমিটি
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সংক্রান্ত কমিটি কাজ করবে।
এই কমিটির সদস্যরা হলেন-ইসির সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, প্রকল্প পরিচালক, আইডিইএ প্রকল্প (২য় পর্যায়), যুগ্মসচিব (প্রশাসন ও অর্থ), যুগ্মসচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২),সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২)। কমিটি প্রয়োজনে যে কোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কার্যপরিধি
নির্বাচন পরিচালনা কাজের জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ।
নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিতব্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়।
পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী, আনসার ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিতকরণ।
ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন।
ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন নির্বাচনি মালামাল পরিবহন, বিতরণ এবং ভোটগ্রহণ কাজে নিরাপত্তা বিধানের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তা প্রদান।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত সকল বাহিনীর সাথে সমন্বয়পূর্বক সম্ভাব্য সহিংসতা, সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলার আশংকা নিরূপন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং ছ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি।
২. প্রবাসী ভোট ও পর্যবেক্ষক সমন্বয় কমিটি
প্রবাসী ভোট ও দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক সমন্বয় কমিটিরও দায়িত্ব পেয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ইসির সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২), উপসচিব (নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ), পরিচালক (জনসংযোগ), সিস্টেম ম্যানেজার (আইসিটি) এবং কমিটি প্রয়োজনে যে কোন কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কার্যপরিধি
প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রদানের পদ্ধতি প্রণয়ন।
প্রবাসীদের ভোট প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সমন্বয়।
প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয়।
পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুসারে দেশী এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়; এবং
প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি।
৩. নির্বাচনী আইন কমিটি
ভোটের সময় যুগ্ম জেলা জজদের সমন্বয়ে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করে থাকে ইসি। তারা ভোটের অনিয়মে চিহ্নিত করে ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। এবার তাদের কার্যক্রম সরাসরি ইসিই তদারকি করবে।
নির্বাচনি আইন, বিধি, প্রবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন সম্পর্কিত কার্যাবলি সম্পাদন এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির তদারকি করবেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ইসির সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব (আইন), যুগ্মসচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-১), উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২), সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (নির্বাচন সহায়তা ও সরবরাহ)। এছাড়া কমিটি প্রয়োজনে যে কোন কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কার্যপরিধি
আইন, বিধি, প্রবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন সম্পর্কিত কার্যাবলি।
আইনের সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা/ম্যানুয়াল প্রস্তুত কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়।
ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়।
প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি।
৪. মাঠ প্রশাসন
মাঠ প্রশাসন সমন্বয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন-ইসির সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, এনআইডি উইং মহাপরিচালক, যুগ্মসচিব (প্রশাসন ও অর্থ), যুগ্মসচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২), উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২), এবং কমিটি প্রয়োজনে যে কোন কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কার্যপরিধি
নির্বাচন কমিশনের সাথে মাঠ প্রশাসনে নিয়োজিত/দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসামরিক কর্মকর্তাগণের নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান।
মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
মাঠ প্রশাসন হতে নির্বাচন কমিশনে তথ্য প্রেরণের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী রিপোর্টিং পদ্ধতি প্রবর্তন ও মনিটরিং।
নির্বাচনী সময়ে উদ্ভূত যেকোনো সংকট নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান
আচরণ বিধি প্রতিপালনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে সমন্বয় ও পরামর্শ প্রদান
প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি।
৫. ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত, প্রশিক্ষণ ও তদারকির লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনার তহমিদা আহমদ।
কমিটির সদস্যরা হলেন-ইসির সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, মহাপরিচালক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, যুগ্মসচিব (প্রশাসন ও অর্থ), যুগ্মসচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২), সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২)।
এ কমিটি প্রয়োজনে যে কোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
কার্যপরিধি
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তা/ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত, তদারকি এবং প্রযোজ্য সংশোধন বিষয়াদি।
যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যাবলি তদারকি।
নির্বাচনী কর্মকর্তা/ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারকি ও সমন্বয়; এবং ঘ) প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি।


