ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগেও এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সিআইডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পূর্ব সরমঙ্গল গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা (৫৪) এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কানোরিয়া গ্রামের মো. আমির হোসেন স্বপন (৩৮)।
সিআইডি জানায়, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলে একটি নৌকা ডুবে আট বাংলাদেশি মারা যান। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিহতদের মরদেহ দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তিউনিসিয়া উপকূলে ট্রলারটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
সিআইডি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম ও আমির হোসেন নিহত ভুক্তভোগী রাসেল শেখের (১৯) পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, মানবপাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং রাসেলকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬/৭/৮/৯/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ঘটনায় এর আগে গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতলেব মাতব্বর (৬৮) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের পাশাপাশি পলাতক আসামি, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে কাজ করছে তদন্তকারী দল।
বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


