একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘অতীতের ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পর ও আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যে ভুলটা আপনারা করেছেন, তার সংশোধনের একটি পথ সামনে আছে। যদিও এখন পর্যন্ত আপনারা ক্ষমা চাননি—ক্ষমা চান, আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন না হলে দেশে একটা অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই নির্বাচন যাতে না হয়, কেউ কেউ বলেই ফেলেছে তাদের দাবি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচন তারা প্রতিহত করবে। নির্বাচনের নামে, প্রতিরোধের নামে রাস্তায় নামার চিন্তা করলে পরে আপনাদের ভুল দ্বিগুণ হিসাবে দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে আন্দোলনের স্বার্থে বিএনপি কিছু দলকে পাশে রেখেছিল, যা দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কে প্রত্যাশা করেছিল একটি স্বাধীনতা ঘোষকের দল এইরকম একটি দলকে পাশে রাখবে?’
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির কথা তুলে ধরে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বর্ডার থেকে সাগর–বন্দর–নদী–নালায় যেখানে ১০ জন লোক থাকবে, সেখানে কমপক্ষে ৬-৭ জন বিএনপি। আওয়ামী লীগ পালিয়েছে। সেই বিএনপি যদি উঠে দাঁড়ায়, তাহলে দেশ রক্ষায় পুলিশ বা সেনাবাহিনী লাগবে না।’
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের হাত ধরে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও ভাল নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘ মুহাম্মদ ইউনূস, আপনি যদি একটা ভাল নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ফিরতে পারেন আপনার বাড়িতে, তাহলে সম্মান জানাব। আমি ইউনুস সাহেবকে পছন্দ করি এ জন্যেই তার দেশে-বিদেশে একটা বিশেষ সুনাম আছে।’
বর্তমান সরকারের অধীনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই সরকার যে উদ্যোগটা নিচ্ছে, সেই নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করি। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে যে সরকার আসবে, আমরা মনে করি সেই সরকার দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারবে।’


