বাংলাদেশ যদি ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে তাহলে তা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে বলে মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি।
তিনি বলেন, ‘ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা আঞ্চলিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।’
সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্ক: যৌথ সমৃদ্ধির জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত।
হামু দর্জি বলেন, ‘যেহেতু ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক লাভজনক হতে পারে।’
দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারত্বের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি পরিবেশ, জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা, পর্যটন এবং শিক্ষা মতো সাধারণ অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়তে ভুটার অঙ্গীকারবদ্ধ।’
বর্তমানে অন্তত ২৩১ জন ভুটানি শিক্ষার্থী বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় লেখাপড়া করছেন বলেও জানান তিনি। সেইসঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশিদের জন্য ভুটানে ভ্রমণ তুলনামূলক সহজ। আর তাই গত বছর প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি দেশটিতে সফর করেছেন।
স্বাগত বক্তব্যে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভুটানই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করতে, আমাদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পড়েন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফী বিনতে শামস।
তিনি বাংলাদেশ-ভূটান সম্পর্কের বিকাশ এবং বাণিজ্য, সংযোগ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সহযোগিতায় উদ্ভূত সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, এসব সহযোগিতাআঞ্চলিক স্থিতিশীল উন্নয়ন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনার পরিচালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।


