ভারতের ইউরেশিয়ান টাইমস-এর ’ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডা’র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
এতে বলা হয়, ওই সংবাদ মাধ্যেম গত ৯ জুন মতামত নিবন্ধে সালাহ উদ্দিন শোয়াইব চৌধুরী দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে নিজেকে ‘সুলতান’ বানাতে চান। তিনি দাবি করেন, ইউনূসের ঘোষণার পর সামরিক বাহিনী ভেঙে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি আর্মি’ তৈরি হবে এবং ভোটবিহীন ‘ইসলামিক ক্যালিফেট’ গঠিত হবে।
প্রেস ইউংয়ের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, ’বিতর্কিত’ সালাহ উদ্দিন শোয়াইব চৌধুরীর ওইসব দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’। মুহাম্মদ ইউনূস ৬ জুন ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তথাকথিত ‘জুলাই চার্টার’ আসলে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কারপত্র, যেখানে দলগুলো কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতি দেবে। এতে সংবিধান বাতিল কিংবা বিপ্লবী সরকার গঠনের কোনো কথা নেই।
ওই লেখক আরও দাবি করেছেন, ইউনূস ‘জাতিসংঘে উগ্রপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত’, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একেবারেই উল্লেখ নেই। বরং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগষ্ট থেকে সংঘটিত সহিংসতা ছিল ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক’ এবং আগের সরকারের অভিযানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর, সেন্ট মার্টিন, মিয়ানমার করিডোর ‘যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার’ দাবি নিয়েও ওই লেখেকর বক্তব্য ‘মিথ্যা’। জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রস্তাবিত রাখাইন সহায়তা করিডোর এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে। সেন্ট মার্টিন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও ভিত্তিহীন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রেস উইংয়ের প্রতিবাদপত্রে আরো বলা হয়, ‘বিতর্কিত লেখক’ সালাহ উদ্দিন শোয়াইব চৌধুরী এর আগেও ‘অসংখ্য ভুয়া তথ্য’ ছড়িয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ‘উসকানি ও প্রতারণার’ অভিযোগে মামলা রয়েছে।


