চাহিদামতো ভিজিএফের চালের কার্ড না পেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের দাবি, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। ভিজিএফ চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদের দিতে বলায় এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চালের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কয়েক দফা বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে পরিষদের ভেতরে কথা বলার সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির পর বিএনপির নেতারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদে হামলা চালান। এতে কার্যালয়ের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ভাঙচুর করা হয় চেয়ার-টেবিল।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, বিএনপি নেতা আনিস মণ্ডল ও কনিজসহ কয়েকজন রামদা হাতে ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন এবং তাকে মারধর করছেন। আগের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বৈঠক চলাকালে কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যান। সেখানে যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে ৬০০ ভিজিএফ কার্ড পেয়েছি। বিএনপি নেতারা সব কার্ড নিতে চান। স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের হওয়ায় তাদের ১০০ কার্ড দিতে চেয়েছিলাম। কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। আমি চলে যাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা চালান। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে সচিবের গলায় রামদা ঠেকিয়ে মারধর করেন।’
প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় আপাতত মামলার বিষয়ে ভাবছেন না বলে জানান চেয়ারম্যান।
ইউপি সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। বিএনপি সাড়ে ৪০০ কার্ড দাবি করে। তাদের ১৫০টি নিতে বলা হয়েছিল। তারা জামায়াতকে কোনো কার্ড দিতে রাজি নয়। আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে কথা বলতে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মওলানা আনিসুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মণ্ডল বলেন, ‘চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গ্রামের এক যুবককে বিদেশে পাঠানোর নামে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না। ওই টাকার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম।’
হাতে রামদা থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিস বলেন, ‘অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়েছিলাম। তাই আমার হাতে দেখা গেছে।’
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ইউএনওকে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


