ভারী ট্রাক চলাচলে মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠেছে সড়ক

ভারী ট্রাক চলাচলে মৃত্যুকূপ হয়ে ওঠেছে সড়ক
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ইটভাটার ভারী ট্রাক আর ফসলি জমির মাটি বহনের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। মানিকনগর বাজার থেকে সিরাজপুর বাজার এবং পালপাড়া মান্নার দোকান থেকে ফতেপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা। কোথাও ইট-সুরকি উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে হাঁটুসমান গর্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মাটি ও ইটবোঝাই ১০-১৫ টনের শত শত ট্রাক চলাচল করে। অথচ ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সড়ক ভারী যান চলাচলের উপযোগী নয়। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলায় পিচ উঠে যাচ্ছে, দেবে যাচ্ছে রাস্তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির ব্যবসা-ই এই বেহাল দশার মূল কারণ। বর্ষায় মাটির ট্রাক থেকে পড়া কাদায় সড়ক আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টি হলে সড়কটি কোথাও কোথাও ডোবায় পরিণত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুর রহমান বলেন, ভাটার ইট ও জমির মাটি নেওয়ার ১০ চাকার ট্রাক দিনরাত চলে। ওভারলোডের কারণে রাস্তা টিকছে না। একবার মেরামত করলেও ছয় মাসেই আবার নষ্ট হয়ে যায়।

প্রতিদিন চান্দহর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। পথচারী আনোয়ার শিকদার বলেন বলেন, বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় এই সড়ক। সুস্থ মানুষও এই সড়কে যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

গাড়িচালক আলিনুর রহমান  বলেন, “মাটি-ইটের ট্রাকের কারণে রাস্তায় বড় গর্ত হয়। সেই গর্তে পড়ে আমাদের ছোট গাড়ির চাকা-স্প্রিং ভেঙে যায়।”

যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য আতঙ্ক এই সড়ক। খানাখন্দে ভর্তি এই সড়কে অ্যাম্বুলেন্সও আসতে চায় না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি  মান্নার দোকান থেকে ফতেপুর বাজার পর্যন্ত সড়কট সংস্কারের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সংস্কার নয়, সড়কটি রক্ষায় ইটভাটার ট্রাক ও মাটি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে পানিতে যাবে সড়ক সংস্কারের কয়েক কোটি টাকা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad