একটি মহল খাগড়াছড়ি অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর পুরাতন রমনা থানা চত্বরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন থানার নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করা হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশব্যাপী দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি মহল দুর্গাপূজার উৎসব ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা। ভারতের বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এটি ঘটছে। তবে আমরা এটি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
খাগড়াছড়িতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি চালাচ্ছে। এসব অস্ত্র প্রায়ই দেশের বাইরে থেকে আসে।’
সেখানের এলাকার বেশিরভাগ পর্যটক ইতোমধ্যে নিরাপদে ফিরে আসলেও এখনো কিছু পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
রোববার পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গুলিবিনিময়ে অন্তত তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে গুইমারার রামসু বাজারে দুপুর ১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সহিংসতার পর, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ফেসবুক পোস্টে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধ ডেকেছে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে এর আগে শনিবার অবরোধ চলছিল। সে দিনও কয়েক দফা সংঘাত হয়।


