ভারতের হায়দারাবাদে পাচার হওয়া এক বাংলাদেশি কিশোরীসহ চারজনকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। পরে ওই কিশোরীর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই কিশোরীর অভিযোগ, হায়দারাবাদের বান্দলাগুদায় তাদের জোর করে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল।
বান্দলাগুদা পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এক কিশোরী (১৫) থানায় ছুটে গিয়ে সাহায্য চায়। সে জানায়, তার বাড়ি বাংলাদেশে এবং রূপা নামের এক প্রতিবেশী তাকে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে হায়দরাবাদে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী আরও জানায়, সে ঢাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। রূপা তাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাতের আঁধারে মা-মেয়ে সেজে নদীপথে ভারতে নিয়ে যায়। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শাহনাজ ও হাজেরা নামে অন্য দুই নারী তাকে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ বান্দলাগুদার ইসমাইল নগরে অভিযান চালিয়ে হাজেরা বেগম (৪১) নামের এক নারীকে আটক করা। রূপা নামে ওই বাংলাদেশি নারী কিশোরীটিকে হায়দারাবাদে এনে তার হাতেই তুলে দিয়েছিল। পরে হাজেরার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মেহদিপতনমে একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্য শাহনাজ ফাতিমা (৩২) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফাতিমা যে বাড়িতে ছিলেন সেখান থেকে নারী পাচারের শিকার আরও তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া, মোহাম্মদ সামির (২৩) নামের একজন অটোচালককে হাফেজ বাবা নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সামির তার অটোরিকশায় ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতেন।
চন্দ্রায়নগুপ্ত থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার শুধাকর বলেন, ‘শুক্রবার যখন অটোচালক সামির মেয়েটিকে হোটেলে পৌঁছে দিতে যায়, তখন সে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় মেয়েটি বান্দলাগুদা থানায় আশ্রয় নেয়। মেয়েটিকে এখন হায়দারাবাদের সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী অভিযুক্ত নারী পাচারকারী রূপাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’


