ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে একাদশী পূজার আয়োজনে পদদলিত হয়ে অন্তত নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু ও আট জন নারী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, শনিবার সকালে একাদশী তিথিতে শ্রীকাকুলামের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকালের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শতাধিক নারী ভক্ত পূজার ঝুড়ি হাতে মন্দিরের সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি করে নামতে চেষ্টা করছেন। এসময় মন্দিরের সিঁড়ির কাছে অনেকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দিরটি কেবল দুই থেকে তিন হাজার মানুষকে ধারণ করতে সক্ষম। তবে একাদশীর আয়োজনে ঘিরে এদিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষের সমাগম হয়। মন্দিরে ঢোকার এবং বের হওয়ার জন্য একই পথ থাকায় পূজায় অংশ নিতে আসা অনুসারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। হাজারও মানুষের ভিড় ঠেলে মন্দিরে উঠতে এবং নামতে গিয়ে অনেকেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এসময় তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে বাকিরাও মন্দির থেকে দ্রুত বেড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মিনি তিরুপতি’ নামে পরিচিত কাশিবুগ্গা মন্দিরটি সরকারি দপ্তরের অধীনে না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন এদিন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মন্দির কর্তৃপক্ষও নবনির্মিত মন্দিরে একাদশী পূজার আয়োজনের বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেনি।
মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের দাবি, একাদশীর দিনে এত ভিড় হবে তারা বুঝতে পারেননি। যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটে, সেখানে এখনও নির্মাণকাজ চলায় কেবল একটি পথের ব্যবস্থা করা হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রূপি করে এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রূপি করে অনুদান ঘোষণা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলামের ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে পদদলনে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’
উৎসবের মুহূর্ত শোকে পরিণত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও উপমুখ্যমন্ত্রী পাওয়ান কল্যাণ।


