বর্তমান হাম প্রাদুর্ভাব তৈরি হওয়ার আগেই টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউনিসেফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ‘পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি’ পাঠিয়েছিল। এসব চিঠিতে নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বুধবার রাজধানীর ইউনিসেফ ভবনের জেপিজি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স।
তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে সর্বশেষ চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, যাতে নতুন প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।
লিখিত যোগাযোগের পাশাপাশি ইউনিসেফ কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠকেরও চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বৈঠক করেছি।’
সময়মতো দেশে টিকা আনা না গেলে টিকার ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে ইউনিসেফ সাবেক সরকারকে বারবার নিজেদের উদ্বেগ জানিয়েছিল উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি বছরই হাম রোগের সংক্রমণ দেখা গেছে। ২০১৯ সাল থেকে পাওয়া তথ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণের উপস্থিতি দেখা যায়।’
তার মতে, সংক্রমণের এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় এখনো অনেক শিশুই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে। পরে এ কারণেই সরকারকে বিশেষ টিকাদান অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা।’
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।


