ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল আছেন তারা। বৈঠক শেষে তিনি আরো জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে সরকারের তরফ থেকে।
আইসিসির সাথে কয়েক দফায় বৈঠক, চিঠি চালাচালি ও দীর্ঘ আলোচনা শেষেও কোনোকিছুই নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি বিসিবি। বুধবার আইসিসি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে ভারতে বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই এবং বিশ্বকাপ খেললে ভারতেই খেলতে হবে তাদের। এর সাথে বৈঠক শেষে সরকারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বেধে দিয়েছে একদিনের ডেডলাইন।
সেই ধারাবাহিতায় ক্রিকেটারদের সাথে বিকেল ৩টায় বৈঠকে বসেছিলেন আসিফ নজরুল। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বকাপ দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররাও। ওয়ানডে ও টেস্ট দলের দুই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তকেও দেখা গেছে সেখানে।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘স্বাভাবিকতই আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা একটা কষ্ট করে অ্যাচিভ করেছে। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই।’
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের কাছ থেকে এসেছে জানিয়ে আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কিনা সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারো বিবেচনার স্কোপ নাই। ধন্যবাদ।’
আইসিসির সাথে দফায় দফায় বৈঠক, চিঠি চালাচালি ও দীর্ঘ আলোচনা শেষেও কোনোকিছুই নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি বিসিবি। টেকেনি ভেন্যু ভারতের বাইরে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধও। বরং বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আইসিসির সভায় বাংলাদেশের এই দাবির বিপরীতে পাকিস্তান ছাড়া ভোট দিয়েছে অন্য সব পূর্ণ সদস্য দেশগুলো। ইএসপিএনক্রিকইনফোর বরাতে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ভারতে খেলতে না গেলে বাংলাদেশের বদলে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি।
সেই ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে আসিফ নজরুল মনে করেন, আইসিসি থেকে বাংলাদেশ সুবিচার পায়নি, ‘আমাদের ডিসিশন পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম স্কোপ নাই। আমরা এখনো আশা করব, আমরা মনে করি আমরা আইসিসি থেকে সুবিচার পাই নাই। আমরা এখনো আশা করব আইসিসি সুবিচার করবে।’
যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আইসিসি একদিনের সময় বেধে দিয়েছিল বিসিবিকে। যেহেতু টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াতে দুই সপ্তাহের মতো সময় আছে তাদের হাতে। অবশ্য ভারতে খেলার প্রস্তাব নাকচ করার পরেও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আশাবাদী, বাংলাদেশের ভেন্যু শ্রীলংকাতে সরিয়ে নেবে আইসিসি।
‘আমরা এখনো আশা ছাড়ি নাই। আমরা আশা করব আইসিসি আমাদের জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কটা সুবিবেচনার সাথে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দেবে বিশ্বকাপ। আমরা সেই আশাবাদ নিয়ে এখনো অপেক্ষা করছি’, বলেন আসিফ নজরুল।
গত ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্স বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বিসিবি। দুই দফায় আইসিসিকে ইমেইল করে অনুরোধ জানায় বিশ্বকাপের ভেন্যু ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে। কারণ হিসেবে দেখানো হয় নিরাপত্তা ইস্যুকে।
মূলত ভারতের কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের জেরেই নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে মোস্তাফিজকে আসন্ন আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশনা দেয় বিসিসিআই। যদিও আইসিসির আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সেই প্রেক্ষিতে আসিফ নজরুল প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ভারত নিশ্চিত করতে না পারলে, পুরো দল, দর্শক-সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, ‘ ভারত আমাদেরকে, মুস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই, আমাদের ক্রিকেটারদের, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের দর্শকদের সবাইকে কীভাবে নিরাপত্তা দিতে পারবে?’


