বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্কের নীতি ওই অবস্থান থেকেই নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, ‘প্রথমে বাংলাদেশ, তারপর অন্যান্য দেশ’, এই নীতিতে তারা বিশ্বাসী।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকালে এ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হয়। লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার মতে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সুষম সম্পর্ক থাকা উচিত, তবে বাংলাদেশের স্বার্থে কখনো কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তারেক বলেন, ‘এখানে ওই দেশ বা অন্য দেশ তো বিষয় না। বিষয় তো হচ্ছে, ভাই বাংলাদেশ আমার কাছে আমার স্বার্থ, আমি আগে আমার দেশের মানুষের স্বার্থ দেখব, আমার দেশের স্বার্থ দেখব। ওটাকে আমি রেখে আপহোল্ড (ঊর্ধ্ব তুলে ধরে) করে আমি যা যা করতে পারব, আমি তাই করব।’
গত বছর ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্কের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন তারা যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই।’
‘এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সাথে শীতল থাকবে। সো, আমাকে আমার দেশের মানুষের সাথে থাকতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে তারেক উদাহরণ হিসেবে পানির হিস্যা ও সীমান্ত হত্যার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পানির হিস্যা চাই এবং সীমান্তে কোনো সহিংসতা, যেমন ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কখনো মেনে নেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য অধিকার, যেমন পানির হিস্যা এবং সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে আমাদের জোরালো অবস্থান থাকবে।’
তারেক বলেন, ‘আমরা দেশের স্বার্থের পক্ষে থাকবো, এবং কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই স্বার্থই থাকবে প্রধান।’
তিনি যে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘আপস না করে’ বাংলাদেশের জনগণের ‘নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত’ রাখার কথা উল্লেখ করেন।


