ভারতীয় নাগরিক রবিউলের ফের ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

ভারতীয় নাগরিক রবিউলের ফের ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের গরমিল, বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে না পারা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে রোববার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ।
ডিবির রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন এ আবেদন করেন।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত রবিউলকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। ওই শুনানিতে রবিউলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

পুলিশের আগের আবেদনে বলা হয়েছিল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, রবিউল নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট দেখালেও তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে জন্মতারিখের মধ্যে অমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশে একাধিকবার আসা-যাওয়া করলেও প্রতিবার আসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন

জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় তার গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নতুন রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছে, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং তার সঙ্গে কোনো অপরাধের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তাকে পুনরায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল বাংলাদেশে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। পাশাপাশি ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল পুলিশ তার কাছ থেকে কোনো অপরাধসংশ্লিষ্ট তথ্য পায়নি বলে দাবি করেন। বাংলাদেশে আসার কারণ হিসেবে তিনি বন্ধু কাওসারের সঙ্গে গার্মেন্টসের কাপড়ের ব্যবসার কথা বলেন। বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের অমিল প্রসঙ্গে রবিউল বলেন, কাগজগুলো অনেক আগে করা হওয়ায় তথ্যের কিছুটা অমিল থাকতে পারে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে রবিউলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। নতুন রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই, তার বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার কারণ এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে ডিবি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad