ভয়মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানিয়েছেন, গণমাধ্যমের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কাছে নির্ভেজাল তথ্য পৌঁছে দেওয়া। সরকার বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই এ খাতের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবে।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এই যাত্রায় রাজপথের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। আন্দোলনের সময়ে সংবাদপত্রের প্ল্যাটফর্মগুলো ছিল অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। রাজপথের সহযোদ্ধাদের মতো গণমাধ্যমকর্মীদেরও যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বজুড়েই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি যেমন একদিকে মানুষের ক্ষমতায়ন করেছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে নানা জটিলতা। এসব সমস্যা প্রযুক্তির মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তবে সরকার কোনো অবস্থাতেই তথ্যের স্বচ্ছতার প্রশ্নে আপস করবে না।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও ভয়মুক্ত পরিবেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি নিজে জানেন ভয়ের মধ্যে কাজ করার মানসিক যন্ত্রণা কেমন। গণমাধ্যমের মতো একটি সম্মানিত পেশায় যারা নিয়োজিত, তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকা কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে একটি নির্ভয় সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার অর্থ হলো নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেই স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।


