ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব ভয়ভীতির উপরে উঠে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভোট আপনার শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সচেতনভাবে আপনারা পালন করবেন এই আমার বিশ্বাস। যেকোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন, প্রবঞ্চনা এবং সীমাবদ্ধতার ঊর্ধে উঠে নিঃসংকোচে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন সিইসি। এসময় আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল মালিকানা প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মানসম্মত নির্বাচনের অনুপস্থিতি প্রায়শই আমাদের ঐতিহ্য এবং সামষ্টিক প্রত্যাশাকে ম্লান করেছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।’
‘আমাদের ভাইবোন-সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে- একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠান। যা জাতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।’
নিরাপদ ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘ধর্ম, গোত্র, গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলে এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করুন। পরিবারের প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও সন্তানসম্ভবা মাসহ সকলকে নিয়ে ভোট দিতে আসুন। আমি আশা করি, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নেবে।’
এসময় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটের প্রসঙ্গেও কথা বলেন সিইসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ অসত্য এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারিত কোনো তথ্যে কান দেবেন না, গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন অসত্য তথ্য শেয়ার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থী এবং দলগুলোর প্রতি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা আচরণবিধি মেনে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে ভোটারদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনই হোক আপনাদের লক্ষ্য।’
নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর জানিয়ে সিইসি বলেন, কমিশনের সদস্যরা নির্ভয়ে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, এ ব্যাপারে কোন শিথিলতা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’
নির্বাচনে যখন যা
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ হবে।
এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর। এসব মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি, কমিশনে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলবে ২ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগ পর্যন্ত।
সিইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বাদ পড়া প্রায় ৪৫ লাখ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইন সংশোধন করে ভোটার হওয়ার যোগ্যতার তারিখ প্রতিবছর ১ জানুয়ারির পরিবর্তে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত দিনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ৩১শে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত যোগ্য তরুণ ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন।
গত ১৮ই নভেম্বর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন।


