ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘দি মেঘনা জেনারেল হাসপাতাল’ নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আনাস নামে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শহরের পাইকপাড়া এলাকায় অবস্থিত এই হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে।
শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে শিশুটি মারা গেছে। মৃত আনাস হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুই দিন আগে হামের উপসর্গ দেখা দিলে ডা. তৈয়বুর রহমানের পরামর্শে শিশুটিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিনের চিকিৎসায় তার অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল।
স্বজনদের দাবি, রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত আনাস অনেকটা সুস্থ ছিল। রাতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইনজেকশন দেওয়ার কথা ছিল। রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নার্স সোনিয়া শিশুটিকে ইনজেকশন দেওয়ার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে।
শিশু আনাসের বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এই হাসপাতালের চিকিৎসা এত খারাপ, জানতাম না। আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের লোকজন সবাই পালিয়ে গিয়েছিল। নার্সের দেওয়া ভুল ইনজেকশনের কারণে ছেলে মারা গেছে। ডাক্তার যে ইনজেকশন লিখে দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে আরেকটি ইনজেকশন মিশিয়ে বাচ্চাকে দেওয়া হয়েছে। এর পরপর বাচ্চার চোখ-মুখ কালো হয়ে যায়, হাত-পা শক্ত হয়ে যায়; পরে ছেলেটা মারা যায়। এখন হাসপাতালের লোকজন বলছে, এটা নার্সের দোষ। কিন্তু নার্স দোষ করলে এর দায় তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারে না।’
আনাসের মা সোমা আক্তার বলেন, ‘নার্স ইনজেকশন দেওয়ার পর ছেলে চিৎকার দিয়ে ওঠে। পরে তার কাছে গিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করি। সে তখন হাত-পা বাঁকা করে চিৎকার করছিল।তখন নার্সকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ছেলে আর ঠিক হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।’
‘পরে ওই নার্স হাসপাতাল থেকে চলে যায়। আমার বাচ্চা খুব প্রাণচঞ্চল ছিল। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ আগেও সে তার দাদুর সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ করে আমার বাচ্চার এমন হবে, ভাবতেও পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নার্সকে বারবার বলেছিলাম, যদি ভালোভাবে না বোঝেন, তাহলে ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান; কিন্তু কথা শোনেনি। তিনি শুধু বলছিলেন, ঠিক হয়ে যাবে। এমনকি চিকিৎসককেও ডাকেননি নার্স।’
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাছির মিয়া জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে অভিযুক্ত নার্সকে ডেকে আনেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তবে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. নাসির বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’


