গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ‘ঢাকা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় জলাশয় চিহ্নিতকরণ ও মানচিত্রায়ন: মানচিত্র এবং কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা কর্মের ওপর সূচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। রোববার এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আখতার। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উক্ত সেমিনারে অংশ নেন।
প্রস্তাবিত এই গবেষণায় ব্রিটিশ মানচিত্রকার জেমস রেনেলের অংকিত মানচিত্রকে ১৭৭৬ সালের প্রাথমিক ভিত্তি মানচিত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্য হলো, উক্ত ঐতিহাসিক মানচিত্রে ঢাকা ও তৎসংলগ্ন এলাকার নদী ও জলাশয়ের আদি অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্রের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে সে সকল নদী ও খালের বর্তমান অবস্থা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
এর আগে সম্পাদিত অধিকাংশ গবেষণায় ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালে প্রণীত ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) অথবা ১৯৬৬ থেকে ১৯৮৪ সালে প্রণীত রিভিশনাল সার্ভে (আরএস) মানচিত্রকে ভিত্তি ধরা হয়েছিল, যার ফলে ঢাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক নদী ও খাল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পূর্বের এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বর্তমান গবেষণায় জেমস রেনেলের মানচিত্রকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া নদী ও খালের বর্তমান প্রকৃত চিত্র বের করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পরে আহম্মদ সোহেল মনজুরের নিকট ১৭৭৬ সালে জেমস রেনেলের আঁকা ঢাকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানচিত্রের একটি অনুলিপি হস্তান্তর করেন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহমুদ আলী।


