ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের এক বৈঠকে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট ২০২৬’-এর একটি বিতর্কিত ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে দুর্বল ব্যাংকের সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেকসই নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ গভর্নর।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সম্পাদকরা বলেন, এই ধারাটি ব্যাংক খাতের সংস্কার ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এটি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর জানান, আইনটি পাস হওয়ার প্রায় দুই মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাবেক মালিক ব্যাংক ফেরত চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেননি। গভর্নরও এই ধারাটিকে বাস্তবে ‘অকার্যকর’ বা ‘রক্ষণ অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

দেশে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, সুশাসনের অভাব এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই এই সংস্কার উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনাটি সামনে এল।

গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেন, আর্থিক খাতের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গভর্নর ব্যাংক খাতের সুশাসন জোরদার, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর তদারকি বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্বিক সংস্কার কর্মসূচি তুলে ধরেছেন।

খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন’ সংশোধনের প্রস্তুতি চলছে এবং আদায় অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও তিনি সম্পাদকদের অবহিত করেন।

এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

গভর্নর পুনর্ব্যক্ত করেন, ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং ঋণ বিতরণ ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পেশাদারত্ব, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। বৈঠকে জানানো হয়, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ‘কোর ব্যাংকিং সিস্টেম’ (সিবিএস) আপগ্রেডেশন সম্পন্ন হলে ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

বৈঠকে প্রথম আলো, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বণিক বার্তা, মানবজমিন, দৈনিক ইনকিলাব, সমকাল ও আগামীর সময়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad