ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার

ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি গ্রেপ্তার
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুন। শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আবাসন ব্যবসার আড়ালে কয়েকশ গ্রাহকের প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

শনিবার রাতে বিদেশ থেকে ফিরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলা ভবনের ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তারা উত্তরা সেক্টর-৪-এর অফিস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। মামলার বাদী ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং তার এক বন্ধু ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন।

সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া করা থ্রি-স্টার হোটেল ও মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে চক্রটি প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোম্পানির মানি রিসিট ও চেক দেওয়া হলেও পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রেশন না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হতো। একপর্যায়ে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন

প্রতারণার পর কোম্পানির এমডি মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। নতুন পর্ষদ এক নোটিশের মাধ্যমে জানায়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া কোনো আর্থিক লেনদেনের দায়ভার তারা নেবে না। গ্রেপ্তার মিথুন এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং মামলা হওয়ার পর কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যান।

ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের তদন্তে গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও একাধিক প্রতারণা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সর্বসাধারণকে এ ধরনের আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad