বৈদেশিক সম্পর্কে ফলভিত্তিক কূটনীতির কৌশল বাংলাদেশের

বৈদেশিক সম্পর্কে ফলভিত্তিক কূটনীতির কৌশল বাংলাদেশের
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

প্রতীকী বা আনুষ্ঠানিক লাভ নয়, বরং দৃশ্যমান ও বাস্তব ফল নিশ্চিত করে এমনভাবে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ। শনিবার এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মে. তৌহিদ হোসেন।

ঢাকার একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ প্রধান ও মধ্যশক্তির দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হব, দরকার হলে স্পষ্টভাবে বলব এবং ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব গড়ে তুলব, তবে সবসময় জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সামনে রেখে।’

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল এখন একটি ‘কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু’ হয়ে উঠছে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা রাখতে চায়, কোনও নিষ্ক্রিয় পথঘাঁটি নয়।

রোহিঙ্গা সংকট
তৌহিদ হোসেন বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়ছে এবং বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি, আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রেখেছি, এবং আমরা জানি মানবিক সংকট কত দ্রুত বিস্তৃত হতে পারে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থিতিশীলতা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অগ্রাধিকার। তাই কার্যকর বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি- যেগুলো বাস্তব ফল দেয়।

আরও পড়ুন

অস্ত্র হিসেবে জ্ঞানের ব্যবহার

উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, তথ্য এখন এক শক্তিশালী হাতিয়ার, যা কূটনীতি, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করছে।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপফেক, পরিকল্পিত মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য প্রচার, নজরদারি—এসবই বৈশ্বিক চরিত্র বদলে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিজেদের তথ্য ক্ষেত্র সুরক্ষিত রেখে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত, যেখানে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার দুটোই রক্ষা করবে।

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
তৌহিদ হোসেন বৈশ্বিক অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তিত চিত্র নিয়েও কথা বলেন, যেখানে ভেঙে পড়ছে সরবরাহ শৃঙ্খল, বাড়ছে নিষেধাজ্ঞা এবং ঝুঁকি হ্রাসে জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ হলো—অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সংযোগ জোরদার করা। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব যেন পরস্পর লাভজনক হয়, শোষণমূলক নয়।

তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের বঙ্গোপসাগরের সীমাহীন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে এবং এটিকে প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির করিডোরে পরিণত করতে হবে।’

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর