বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭ থেকে ১০টির মতো মামলায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তাধীন প্রতিটি মামলার সঙ্গেই বেনজীরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান।
এর আগে, রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, সাবেক পুলিশপ্রধানকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদ শুধু ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর অভিযানের মামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিযুক্ত নন, বরং আরও বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত গুমের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার বর্তমানে চলমান। এ ছাড়া শাপলা চত্বরের ঘটনায় তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বেনজীর আহমেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তিনি দাবি করেন, পুলিশ কমিশনার, র্যাব প্রধান এবং পরে আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের সঙ্গেও সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যদি বাংলাদেশে আনা হয়, তাহলে এ ট্রাইব্যুনালেও তাকে আনা হবে। তিনি জানান, বিচারাধীন মামলাগুলোতে তাকে আদালতে হাজির করা হবে এবং তদন্তাধীন মামলাগুলোতে প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে বেনজীর আহমেদের ভূমিকা ছিল।
তিনি জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করার দায়ও সাবেক এই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে রয়েছে।


