বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘প্রতিবাদী বাউল সন্ধ্যা’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে ঢাবির একাংশ শিক্ষার্থী।
সোমবার সন্ধ্যায় টিএসসির পায়রা চত্বরে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বাউল শিল্পীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামিল খ্যাপা, আকাশ গাইন, জয়ন্ত দা, কানন মোল্লা। তারা বিভিন্ন বাউল গান পরিবেশনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ঢাবি সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত বলেন, ‘বাংলার লোকসংস্কৃতি, মানবতাবাদ ও সাম্যের প্রতীক বাউল দর্শন। এ ভূখণ্ডের মুক্তচিন্তার ধারাকে শত বছর ধরে সমৃদ্ধ করেছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে মানুষের অন্তরদর্শন ও সাম্যের যে শিক্ষা বাউল সাধকেরা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের সমাজকে আরও সহনশীল ও সমবায়ী করে তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বাউল শিল্পীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। এ ধরনের আক্রমণ কেবল একজন শিল্পীর ওপর নয়, এটি জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর স্পষ্ট আঘাত।’

আয়োজকদের আরেকজন স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফেরদৌস সিদ্দিক সায়মন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে শিল্প-সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কাম্য নয়। আমরা দেশে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধই একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসর রাষ্ট্রের ভিত্তি।’
সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান মিশু বলেন, ‘বাউল দর্শন কেবল একটি শিল্পধারা নয়; এটি মুক্তচিন্তা, সাম্য ও মানবতার পথ। এই পথ রক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গন সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।’
আয়োজকরা অনুষ্ঠানে চারটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো–হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, বাউল ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘৃণা, উসকানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ।


