ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ এক থ্রোতে রান আউট টিম রবিনসন। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শুরুর এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ড্যান ক্লেভার ও কাটেনে ক্লার্কের দুই ঝড়ো ফিফটির সাথে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিওতে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।
এই ম্যাচ জিততে হলে অবশ্য রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে। কারণ কিউইদের বিপক্ষে এর আগে সর্বোচ্চ ১৩৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। এবার সেই রেকর্ডই নতুন করে জেতার চ্যালেঞ্জ লিটন দাসদের সামনে।
যদিও যেভাবে দুই কিউই ব্যাটার শুরু থেকে খেলছিলেন, তাতে ২০০ পেরিয়ে যাওয়াটাও কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল। তবে ডেথ ওভারে তানজিম সাকিব-রিপন মন্ডলদের দারুণ বোলিংয়ে ৪১ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি কিউইরা।
টসে জিতে ফিল্ডিং করতে নেমে শুরুতে সাফল্য পেলেও ক্লার্ক-ক্লেভারের পাল্টা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ারপ্লেতে শেখ মাহেদী, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডলদের চ্যালেঞ্জ সামলে ফিল্ডিংয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দলের স্কোর নিয়ে যান ৬১-তে। তবে এরপর আরো আগ্রাসী হন দুজনই। দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৫০ বলে ৮৮ রানের জুটি। ক্লার্ক-ক্লেভার দুজনই ছুঁয়েছেন ফিফটি। অবশ্য দুজনই জীবন পেয়েছেন, তবে সুইপ, রিভার্স সুইপ আর ইনসাইড আউট শটে পেয়েছেন দর্শনীয় সব বাউন্ডারি।
রানের চাকায় বাধ সাধেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ইনিংসের দশম ওভারে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ক্লেভার। ২৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। যদিও এর আগে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে রান আউট থেকে বেঁচে যান পারভেজ হোসেন ইমনের থ্রো নন স্ট্রাইকার এন্ডের স্টাম্প খুঁজে না পাওয়াতে।
এর আগে ফিফটি করা আরেক ব্যাটার ক্লার্কও জীবন পেয়েছেন রিশাদের বলে। ইনিংসের দশম ওভারের প্রথম বলেই তাকে স্লগ সুইপ করতে যান ক্লার্ক, কিন্তু স্কয়ার লেগে সাইফ হাসান ক্যাচ মিস করায় ফিফটির ছয় রান আগে আরো একটা সুযোগ পান ক্লার্ক। যদিও ফিফটি পেরিয়ে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি তিনি, ৩৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫১ রান করে রিশাদের এক্সট্রা বাউন্সড ডেলিভারিতে পয়েন্টে হৃদুয়ের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
বেভন জ্যাকবসকে ইনিংস বড় করতে দেননি তানজিম। ডিন ফক্সক্রফটের স্টাম্প উড়িয়েছেন অফস্পিনার মাহেদী। এরপর মিডল ওভারে ঝড় তোলা ভারপ্রাপ্ত কিউই অধিনায়ক নিক কেলিকে ফিরিয়েছেন শরীফুল। ২৭ বলে ৩৯ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটার ফিরেছেন শরীফুলের লেংথ ডেলিভারিতে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে।


