যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে বুধবার তিনি চীনের রাজধানীতে অবতরণ করেছেন।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হবে। তবে এই সফরের মূল লক্ষ্য থাকবে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক।
দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক গার্ড অব অনার দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
ট্রাম্পের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্কসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে চীনের সহায়তা চাইতে পারেন তিনি।
তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সফরের আসল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সয়াবিন, গরুর মাংস এবং বোয়িং বিমানের মতো পণ্যগুলোর জন্য চীনের বাজার নিশ্চিত করা।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছিল, যার বিপরীতে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশ একটি নতুন ‘বোর্ড অব ট্রেড’ বা বাণিজ্য পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা নিরসনের চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী দুই দিন এই দুই নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা


