আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
রোববার ঢাকার বাংলামোটর রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপির পক্ষ থেকে শুরু থেকে আমরা বলে এসেছি, আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের ছিল। সে অনুযায়ী সারা দেশ থেকে মনোনয়নও আহ্বান করা হয়েছিল।’
তিনি জানান, সংস্কার প্রশ্নে পরবর্তীতে আরও দুটি দলের সঙ্গে সমঝোতা হয় এবং তখন তিন দল মিলে ‘সংস্কার জোট’ গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত এবং প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসনমূলক শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যাদের পরাজিত করা হয়েছিল, তারা এখনো নির্বাচন বানচাল এবং সংস্কার ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্র চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন ওসমান হাদির গায়ে গুলি লেগেছে, কাল আপনার গায়ে লাগতে পারে, পরশু আমার গায়ে লাগবে। কারণ প্রধান টার্গেট করা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ নাগরিক, শহিদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের।’
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দলীয় ফোরামে আলোচনার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অগ্রযাত্রা রক্ষায় বৃহত্তর ঐক্য অপরিহার্য। সেই প্রয়োজন থেকেই আমরা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট এবং তাদের সমমনা আটটি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
তিনি জানান, এনসিপি ওই জোটের সঙ্গে কেবল নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে।
‘এটি কোনো সামগ্রিক রাজনৈতিক ঐক্য নয়, বরং ন্যূনতম বিষয়ে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি নির্বাচনী সমঝোতা’, বলেন তিনি।
জোটে যোগ দিলেও এনসিপির সংস্কার, বিচার ও আধিপত্যবাদবিরোধী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপি তার লক্ষ্য ও আদর্শ থেকে সরে আসছে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
দলের ভেতরের আপত্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ দলে থাকবেন কি থাকবেন না–এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’


