বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ চলছে।
রোববার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার যেমন মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে পুনরায় কর্মী প্রেরণের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, রোমানিয়া, সিসেলস, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত কর্মী পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পাঠাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে “জাপান সেল” গঠন করা হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন ভাষার প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। পুনঃপ্রশিক্ষণ, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি এবং স্কিল টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর্মীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বল্প বা বিনা খরচে বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে এবং নতুন নতুন শ্রমবাজার তৈরির মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।
বিশ্বের ১৭৬টি দেশে দেড় কোটির অধিক বাংলাদেশি কর্মরত
বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে দেড় কোটিরও বেশি বাংলাদশি কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার জাতীয় সংসদে এমপি আমির হামজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে নানা ধরনের কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়াসহ সেফ হোম স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেক্সের মাধ্যমে বিদেশগামী ও প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের নানা রকম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে আহত/অসুস্থ ও মৃত কর্মীদের বহনের জন্য দুটি ফ্রিজিংসহ পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স ফ্রি সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীদের এককালীন ১ হাজার টাকা প্রিমিয়ামে পাঁচ বছর মেয়াদে ১০ লাখ টাকাসহ মৃত্যুজনিত বীমা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।


