বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ে ‘খুশিতে নাচেন’ মার্কিন নিরাপত্তা প্রধান

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ে ‘খুশিতে নাচেন’ মার্কিন নিরাপত্তা প্রধান
দুই দেশের সংঘাতের জেরে অন্যায়ভাবে শাস্তির দাবি তুলে ফিফার কাছে ইরানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। ছবি: এক্স
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী) মার্ক ওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর তিনি ‘খুশিতে নেচেছিলেন’। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরানি দলের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের পক্ষেও সাফাই গান তিনি।

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা একটি জয়সূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ইরান। এরপর ২৯ জুন আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবেও ইরানের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়।

ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার পটভূমিতে ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই দাবি করেছেন, তার দল এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরানের মূল ট্রেনিং বেস অ্যারিজোনা থেকে পরিবর্তন করে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুরো টুর্নামেন্টে দলটিকে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রথম দুটি ম্যাচের ক্ষেত্রে তারা খেলা শুরুর মাত্র একদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায় এবং খেলা শেষ হওয়ার দিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের জন্য এই নিয়ম কিছুটা শিথিল করে দুদিন আগে আসার অনুমতি দেওয়া হলেও শনিবারের ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর দলটিকে আবারও টিজুয়ানায় ফেরত পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্ক ওয়েন মুলিন ইরানের বিদায়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল খুশি যে তাদের খেলা শেষ এবং তারা আর ফিরে আসছে না। আমি খুব আনন্দিত হয়েছিলাম যখন আমরা তাদের ভিসা বাতিল করতে পেরেছিলাম এবং বলেছিলাম তারা মার্কিন মাটি ত্যাগ করতে পারে। আনন্দের চোটে আমি হয়তো দু-একটি গানও গেয়েছি, এমনকি খুশিতে একটু নেচেও ফেলেছি।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও যোগ করেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরানের চেয়ে বেশি ঝামেলা আর কোনো দলকে নিয়ে পোহাতে হয়নি।

সরকারের বিশেষ ইভেন্ট সমন্বয় কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশ্বকাপ ব্রিফিংয়ে মার্কিন নিরাপত্তা প্রধানের দেওয়া এই মন্তব্য ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, দুই দেশের মধ্যকার সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ফুটবল দলকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ইরানি স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এই কঠোর বিধিনিষেধের কারণে মাঠের খেলায় তারা যে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন তা উল্লেখ করে তারেমি ইঙ্গিত দেন, বিশ্বকাপ আয়োজকদের অনেকে হয়তো চাননি ইরান গ্রুপ পর্বের বাধা পার হোক।

তারকা ফরোয়ার্ড তারেমি আক্ষেপ করে বলেন, দলটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বমঞ্চে খেলার যে আনন্দ, তা শুরু থেকেই মাটি হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার প্রথম মুহূর্ত থেকে তারা এই মানসিক চাপ ও বৈরি পরিবেশ টের পাচ্ছিলেন।

মুলিনের মন্তব্যের জবাবে ইরান ফেডারেশন বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন দুর্ব্যবহার এবং অসততা দেখতে ইরানিরা অভ্যস্ত, তাই দেশের কেউ এই মন্তব্যে অবাক হননি।

ফেডারেশন আরও যোগ করেছে, একটি দলের বিদায়ে এভাবে প্রকাশ্য উদযাপন মুলিনের নিজস্ব সংকীর্ণ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ এবং এই ধরনের ভাষা আন্তর্জাতিক আইন বা বিশ্বকাপের একজন আয়োজক দেশের ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধের পরিপন্থী।

কোচ ঘালিনোই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় না ইরান টুর্নামেন্টে থাকুক। ফেডারেশনের মতে, মুলিনের এই মন্তব্য কোচের সেই আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad