পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ মিশরীয় বিমান ভাড়ায় এনে সরকারের ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক বিচারপতি এ এফ এ মেসবাহউদ্দিনসহ তিনজন। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, জামিন পাওয়া অন্য দুইজন হলেন- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক ফজলে কবির। এদিন তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর বিচারপতি মেসবাহউদ্দিন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। সেদিন সাতজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল আহমেদ।
এ মামলায় আগে থেকেই জামিনে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল আলম সিদ্দিক, সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেবেশ চৌধুরী ও শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক এয়ারক্রাফট মেকানিক ও বর্তমান প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচার) শরীফ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার (অব.) মো. জাহিদ হোসেন, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার সর্দার, প্রকৌশলী কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী ও লুৎফর রহমান।
দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ওই মামলা করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ পাঁচ বছরের জন্য লিজ (ভাড়া) নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উড়োজাহাজগুলোর ব্যবহার শুরু হলেও অল্পদিনের মধ্যেই একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে।
পরে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আরেকটি ইঞ্জিন আনা হয়। দেড় বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ইঞ্জিনটিও বিকল হয়ে যায় এবং আবারও ইজিপ্ট এয়ার থেকেই আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়। সেটিও কিছুদিন পর নষ্ট হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই নষ্ট ইঞ্জিনগুলো মেরামতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলেও কতদিনে তা মেরামত করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি।
কাজেই ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ের খরচই বহন করে যেতে হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। এতে রাষ্ট্রের ৭৪১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে দুদক।


