বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের যোগদান ও পরিচিতি সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সভায় নবনিযুক্ত সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তার শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে। দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চলমান চুক্তি ও পলিসি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সেই সঙ্গে কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় দ্রুত করার এবং বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রমকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর করার ওপর জোর দেন তিনি।
পরিচিতি সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


