গুমের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান নিজের পক্ষে মামলায় লড়তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছেন।
রোববার জিয়ার পক্ষে তার বোন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজনিন নাহার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করেন। এ ছাড়া আসামি জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনজীবী হিসেবে তার বোন অ্যাডভোকেট নাজনিন নাহারের উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে আইন অনুসরণ না করে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অভিযোগ করেছেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। ট্রাইব্যুনালে নাজনীন বলেন, জিয়াকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা প্রসিকিউশনের লোকজনের বাইরে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিসও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাবিলার সেখানে থাকার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছিল কি না, সেটা তিনি জানেন না। জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিয়াকে নাবিলা হুমকি দিয়েছেন বলে অ্যাডভোকেট নাজনিন দাবি করেন।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্য উদঘাটনের জন্য ভুক্তভোগীদের আনা হয়। আর নাবিলা ইদ্রিস ঘটনা সম্পর্কে জানেন। জিয়াউল প্রায় এক হাজার মানুষকে একাই হত্যা করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুক্তভোগীকে আনা হয়েছে, তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে? তদন্তে আপনার (নাজনীন) বিষয়েও নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, আপনাকেও আসামি করা হতে পারে। জবাবে নাজনীন নাহার বলেন, করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে উভয়পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আসামি করবেন, এখন তো আইনজীবী।
পরে তাজুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ ফলপ্রসু করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা যাকে প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই পাশে রাখতে পারবেন। ভুক্তভোগীর মুখোমুখী হলে আসামি সত্য বলতে বাধ্য হন। এ রকম প্রক্রিয়া তদন্ত সংস্থা অনুসরণ করছে।


