বিটিটিবির অর্থ আত্মসাৎ: ৩ কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড

বিটিটিবির অর্থ আত্মসাৎ: ৩ কর্মকর্তার ৪৪ বছরের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (বিটিটিবি) সাবেক তিন কর্মকর্তাকে ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-বিটিটিবির আগ্রাবাদ কার্যালয়ের সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন এবং সাবেক দুই বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) মো. কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান। রায়ের সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একটি ধারায় পৃথকভাবে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেক আসামিকে মোট ৪৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর করে, ৪২০ ও ৪৬৮ ধারায় ৫ বছর করে এবং ৪৭১ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া প্রত্যেককে বিভিন্ন ধারায় মোট ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন বছর ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৪টি চেকের মাধ্যমে প্রকৃত পাওনার চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। পরে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কিংবা ক্যাশবুকে উল্লেখ না করে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় আত্মসাৎ করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন তৎকালীন জেলা দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা মো. নুর আহাম্মদ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এবং এক আসামি স্বপন কুমার মিত্রের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রায়ের পর দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং আদালতে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর হলেও এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad