বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বলবৎ থাকা অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এ সংক্রান্ত মামলার আইনজীবী শিশির মনির।
এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ এবং পার্লামেন্টের মধ্যে একটা দৃশ্যমান সংঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। বৃহস্পতিবার তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, এই দিনটি দিনটি বিচার বিভাগের জন্য কালো দিন। এই ঘটনার জন্য দেশের বিচারক এবং আইনজীবীদের কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত। মুখে কালো কাপড় পরা উচিত।
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ এবং সরকারের মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দৃশ্যমান টেনশন শুরু হচ্ছে, আর সরকার এই টেনশনটাকে উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু দেশের জন্য এটি ভালো হবে না।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের নির্দেশ দেয়। সেই সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, উদ্বোধন হয়েছে। আংশিক কাজ শুরু হয়েছে। সে আইনটিকেই সরকার রহিত করেছে। তাহলে ইতোমধ্যে সচিবালয় যে প্রতিষ্ঠা হয়েছে, তার কী হবে? বিল্ডিংয়ের কী হবে? কাজের কী হবে? জনশক্তির কী হবে? এগুলো বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটা ব্ল্যাক সিম্পটম হিসেবে থেকে যাবে।
হাইকোর্টের রায় আপিলের পরে কার্যকর হবে, আপাতত কার্যকর হবে না; এ ধরনের বক্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি দাবি করেন। কারণ, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়নি। হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি।
যতক্ষণ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশনার ওপরে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ডাইরেকশন মানতে সরকারসহ সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে, যোগ করেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, ‘এভাবে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গের স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া বিরল নজির। অতীতে বিচার বিভাগের সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পরে এটিকে এভাবে ধ্বংস করা যায়, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়; তার একটি বাস্তব নমুনা আমরা দেখলাম।’
হাইকোর্টের নির্দেশনাকে সরকার অপ্রাসঙ্গিক করে দিচ্ছে। এটা আদালত অবমাননা। যে সংগ্রামের ভিত্তিতে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এই পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল; খামখেয়ালি করে কিংবা জেদের বশে, ধরনের কাজ করা মোটেও সমীচীন হচ্ছে না, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে অবশ্যই উচ্চ আদালতে রিট করব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এবং পার্লামেন্টের মধ্যে একটা দৃশ্যমান সংঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ এবং সরকারের মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দৃশ্যমান টেনশন শুরু হচ্ছে এবং সরকার এই টেনশনটাকে উস্কানি দিচ্ছে।
শিশির মনির বলেন, কিন্তু দেশের জন্য এটি ভালো হবে না। বিচার বিভাগের সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে ভারত সরকারও টিকতে পারেনি। আগুনের সঙ্গে খেলতে গেলে কী হয়, সেটা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।


