‘বিচারকক্ষে মিডিয়ার প্রবেশে বাধা সংবিধান লঙ্ঘন’

‘বিচারকক্ষে মিডিয়ার প্রবেশে বাধা সংবিধান লঙ্ঘন’
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী রাষ্ট্র্রের সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। এই সংবিধানবিরোধী অবস্থান থেকে তিনি ফিরে আসবেন, প্রশাসনিক সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। অন্যথায় সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি দিয়ে বিচারকক্ষে প্রবেশের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে বাধ্য হবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে কর্মসূচি পালন করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর; ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম; ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন; বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ; রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্সট করাপশনের সভাপতি শাফিউদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সাধারণ সম্পাদক ইকরাম উদ্দৌলা প্রমুখ।

নুরুল কবীর বলেন, ওপেন কোর্টে বিচার করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। যে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সেটা সমুন্নত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই বিভাগ নিজে যদি সেই অধিকার লঙ্ঘন করে এটা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক এবং লজ্জাজনক ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘একটা রক্তাক্ত গণঅভ্যত্থানের পর লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। সেই সময়ে আদালতের কার্যক্রম গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে জানানোর কথা ছিল। আমরা লক্ষ্য করছি, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব তথ্য জানানোর অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে।’

তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিতে চাই, অতীতে বিভিন্ন সরকার আদালতের বা বিচার বিভাগের টুটি চেপে ধরলে সংবাদমাধ্যম বিচারবিভাগের পক্ষ অবলম্বন করেছে। সেই সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে যখন সর্বোচ্চ আদালত বাধার সৃষ্টি করে, তখন বিচার বিভাগের নেতৃত্বের গণতন্ত্র পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধানে দেওয়া প্রকাশ্য আদালতে বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধে নিজেদের অভিযুক্ত করবেন না, এটা সম্পাদক পরিষদের আশা।

‘আমরা এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করার জন্য প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ চেয়েও পাইনি। আশা করি প্রধান বিচারপতিসহ সম্মানিত বিচারপতিরা এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করবেন,’ যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, যখন মানুষ অধিকার বঞ্চিত হয় অন্যায়ের শিকার হয়, তখন সে সর্বশেষ আস্থার জায়গা হিসেবে আদালতে যায় অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য। কিন্তু আদালত নিজেই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে?

তিনি বলেন, ‘আজকের এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে যদি অধিকার আদায় না হয়, তাহলে আমরা রাজপথে নামব।’

শহীদুল ইসলাম প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি জানেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের প্রধান বিচারপতি পালিয়ে গেছে, জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেছে, অনেক বিচারপতি পালিয়ে গেছে; আমরা সে পথে যেতে চাই না।’

তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যথায় আমাদের আরো কঠিন কর্মসূচি নিতে হবে। আমরা সেদিকে যেতে চাই না। আমাদেরকে সেদিকে যেতে বাধ্য করবেন না।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনির্টির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির কাছে আমার জানতে ইচ্ছে করে যে, বিচারকক্ষে বসে এমন কী আকাম কুকাম করেন, যেটা জাতি জানতে পারবে না, আর সেজন্য সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন? এতে কিন্তু জাতির সন্দেহ জাগে যে, আদালতে বসে আকাম কুকাম হয় কি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি ফ্যাসিস্ট আমলে এই আদালতে ফরমায়েশি রায় হয়েছে, সেই রায়ের ভিত্তিতে অনেকের ফাঁসি হয়েছে। আমরা বাক স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। আমাদের লেখায়, পেশাগত কাজে বাধার সৃষ্টি করলে আমরা মেনে নেব না। অপকর্মের কারণে সাবেক অনেক বিচারপতি এখন কিন্তু জেল খাটছে। অনেকে পালিয়ে গেছে। আমরা চাইনা ভবিষ্যতে এই রকম আরও কোনো দৃষ্টান্ত দেশে হোক।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করুন। সাংবাদিকদের কাজে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয় সেই ব্যবস্থা করুন। তা না হলে সাংবাদিক সংগঠনগুলোল রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করবে।’

এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘সংবিধানে প্রকাশ্য বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে অথচ প্রধন বিচারপতি সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে বিচার করছেন। জনগণকে বিচার বিভাগ সম্পর্কে জানার অধিকার দিতে হবে।’

আরও বক্তব্য দেন এলআরএফের সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, সাঈদ আহমেদ খান, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, শামীমা আক্তার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ঢাকা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, এলআরএফের সদস্য সংকর মৈত্র, সাজেদুল হক প্রমুখ।

সাংবাদিকদের আদালতের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, উন্মুক্ত বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

এলআরএফের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, আমাদের দাবি মানা না হলে শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচিতে অংশ নেন কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আবু সালেহ রনি, যুগ্মসম্পাদক তানভীর আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, কার্যনির্বাহ সদস্য আসাদুর রহমান, এসএম নূর মোহাম্মদ ও রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন সংগঠনের দুই শতাধিক সদস্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad