পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে একজন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে তা পণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অনুষ্ঠানের অতিথি না করায় তার অনুসারীরা লাঠিসোটা নিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, ব্যানার ছেঁড়া এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অভিযোগ, অনুষ্ঠান শুরুর আগে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২ থেকে ১৫ জন লাঠিসোটা নিয়ে মঞ্চে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির গ্রুপিং দ্বন্দ্বের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করায় তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে এ ধরনের হামলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা করে সাংগঠনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) শাহীনা আক্তার বলেন, অতিথিরা পৌঁছানোর আগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনিও ফোন ধরেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৪ আসনে (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং দীর্ঘদিনের। একদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বাধীন অনুসারী এবং অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বাধীন অনুসারীরা রয়েছেন।
সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু হামলা-ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


