বিইউপিতে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’: সৃজনশীলতা, ব্যর্থতা ও জনদায়িত্ব নিয়ে আলোচনা

বিইউপিতে ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’:  সৃজনশীলতা, ব্যর্থতা ও জনদায়িত্ব নিয়ে আলোচনা
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের (এমসিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো প্যানেল আলোচনা ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’। বুধবার (১০ জুন) বিইউপির স্বাধীনতা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৃজনশীলতা, স্থিতিস্থাপকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং একজন কনটেন্ট নির্মাতার মানসিক জগত নিয়ে আলোচনা করেন দেশের গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ।

সকাল ১১টায় শুরু হয়ে প্রায় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অংশ নেন যমুনা টিভির সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা, ট্রাভেল কনটেন্ট নির্মাতা ও ‘অপূর্ব শো’-এর সঞ্চালক মেহেদী হাসান অপূর্ব, অভিনেত্রী ও মডেল সাবিলা নূর এবং চ্যানেল আইয়ের সম্প্রচারক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দীপ্তি চৌধুরী।

‘একজন ক্রিয়েটরের মনে কী চলে?’ এই কেন্দ্রীয় প্রশ্নকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় ‘আনস্ক্রিপ্টেড ১.০’। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাফল্যের ঝলমলে গল্পের বাইরে গিয়ে সৃজনশীল প্রক্রিয়া, প্রভাবের ভার এবং জনপরিসরে কাজ করার দায়িত্ব সম্পর্কে অকপট ও অনাড়ম্বর আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শানজিন সাইমা শারিতা আয়োজনের ধারণা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। এ সময় ক্লাবের সভাপতি নিগার ইসরাত এবং ক্লাবের ফ্যাকাল্টি মডারেটর ও প্রভাষক ইসরাত জাহান ঐশীও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাইমা ফেরদৌস কথা ও সায়রা নূর। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন মুস্তাক শাহরিয়ার শুভ ও তানজিমা নুসরাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক, পিপিএম, পিপিএমএস, পিএসসি। তিনি প্যানেলিস্টদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমসিসি পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এ আয়োজন বাস্তবায়িত হয়েছে।

আরও পড়ুন

আলোচনায় বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমে ক্যারিয়ার গঠন কতটা বাস্তবসম্মত, অনলাইন সমালোচনা মোকাবিলার কৌশল, দর্শক-শ্রোতার প্রতি দায়িত্ববোধ এবং ক্যামেরার সামনে ও পেছনের ব্যক্তিত্বের পার্থক্য নিয়ে মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। আলোচনা পর্বের মাঝামাঝি একটি গেম সেগমেন্ট আয়োজন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

দীপ্তি চৌধুরী জীবনের অনিশ্চয়তা ও সাফল্যের প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “ভাগ্য কখনও সুযোগের দরজা খুলে দেয়, তবে সেই সুযোগই আবার মানুষকে পরীক্ষা করে। সেই পরীক্ষাকে কীভাবে সামলানো হয়, তার ওপরই নির্ভর করে সাফল্যের ধারাবাহিকতা টিকে থাকবে কি না”।

তরুণ কনটেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশে মেহেদী হাসান অপূর্ব বলেন, “বর্তমান মিডিয়া পরিবেশে নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সময়টাতে ভুল থেকে শেখার পরামর্শ দেন। নিজের যাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু পুরো প্রক্রিয়াটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি।”

আহমেদ রেজা জনসম্পৃক্ত পেশায় টিকে থাকার জন্য স্থিতিস্থাপকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষকে প্রথমে নিজেকে জানতে হবে কী করতে ভালো লাগে এবং কোথায় তার দক্ষতা রয়েছে”। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কথা বলার দক্ষতা শনাক্ত করার পর বিতর্কচর্চার মাধ্যমে সেটিকে বিকশিত ও ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে সাবিলা নূর দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ‘লিপ অব ফেইথ’ বা সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, জীবন অনেক সময় একই ধরনের ইঙ্গিত বারবার দেয়, আর সেই ইঙ্গিতগুলোর মধ্যে কোনটিকে মানুষ গ্রহণ করবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার পথচলাকে প্রভাবিত করে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ হাসান তারিক প্রতিটি প্যানেলিস্টের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে প্যানেলিস্ট, আয়োজক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি দলীয় আলোকচিত্র ধারণ করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad