নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সারাদেশে দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন করার ফলে নির্বাচনের সরকারি ছুটিতে ভোট দিতে যাওয়া মানুষ তীব্র পরিবহন সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
শনিবার রাজধানীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম।
তিনি বলেন, কতটি গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলছেন, দূরপাল্লার প্রায় ২০ হাজার বাস ইতোমধ্যে রিকুইজিশন করা হয়েছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভোটের আগে ও পরে ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ যাতায়াত করবে। এ অবস্থায় দূরপাল্লার বাস তুলে নেওয়া হলে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বে।
সাইফুল আলম বলেন, অতীতে বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে গাড়ি রিকুইজিশন করা হলেও এভাবে দূরপাল্লার বাস নেওয়ার নজির নেই। দূরপাল্লার পরিবর্তে জেলা ও শহরতলীর লোকাল বাস ও মিনিবাস রিকুইজিশন করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতিপূরণ নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। বাস মালিকরা কত টাকা পাবেন, চালক ও হেলপারদের বেতন, খোরাকি ও জ্বালানি ব্যয়ের অর্থ কে দেবে-এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
‘প্রতিটি বাসই ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে কেনা। এসব বাস চালাতে জ্বালানি খরচ, চালক ও হেলপারসহ কর্মীদের বেতন ও খোরাকি দিতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অর্থ বরাদ্দ বা স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে রিকুইজিশন করা বাসগুলো সময়মতো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মালিক সমিতি,’ বলেন সাইফুল আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুম সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


