সরকার জুলাই জাতীয় সনদ কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করবে সেটি জানার অপেক্ষায় রয়েছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল।
বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও বিষয়টি জানতে পারবেন বলে প্রত্যাশা দলগুলোর নেতাদের।
সন্ধ্যায় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া জানার পর তারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, জুলাই সনদে আদৌ সই করা হবে কিনা।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। আর এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মধ্য দিয়ে গেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
তারপরেও সনদ সইয়ের আগের দিন অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে এসে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট দাবি আদায় না হলে সনদে সই না করার ঘোষণাও আসছে।
জুলাই সনদে সই করবে কিনা তা নিয়ে দিনভর আলোচনায় ব্যস্ত পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ সাতটি দলের নেতারা।
দলগুলোর কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল ৪টা নাগাদ সরকারের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর কাছে সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া জানানো হতে পারে। এরপর দলগুলো সন্ধ্যায় বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছি তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’
মিত্রদের সঙ্গে বসে আলোচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে, প্রশ্নটি এড়িয়ে যান এই নেতা।
একই বিষয়ে জানতে টেলিফোন করলে জামায়াত ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন। আপাতত কথা বলতে পারছেন না।
নভেম্বরে গণভোট অথবা সরকারি বিশেষ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ চায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল। এটি বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের খবর না পেলে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বর্জনের পক্ষে এসব দলের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা।
তবে, ভিন্ন চিন্তাও রয়েছে অনেকের মাঝে।
জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য বলেন, ‘বিএনপি চায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক। আমরা টোটাল অনুষ্ঠান বর্জন করলে দলটি এ সনদ আর বাস্তবায়ন করতে দেবে না। বরং যতটুকু সররকার এবং বিএনপিকে চাপ দিয়ে আদায় করা যায় সেটি দেশ ও মানুষের জন্যে কল্যাণকর হবে। সে বিষয়টি আমরা মাথায় রেখেছি।’
জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানে সরকারি আয়োজনে এরই মধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৩০ টি রাজনৈতিক দল বা জোটকে।
যাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সকালেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে সনদে সই করবে না এনসিপি। দলটি ঐকমত্যের বিষয়গুলোতে ‘নোট অব ডিসেস্ট’ প্রত্যাহার চায়।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ‘অতি জরুরি’ বৈঠকেও দলগুলো আগের অবস্থানে অনড় ছিল।
অন্যদিকে সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট। আর জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট চায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘নোট অব ডিসেস্টসহ তারা সনদে স্বাক্ষর করবেন ‘
আর জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, তাদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তবে, সনদে স্বাক্ষর করবেন কিনা তা জানতে অনুষ্ঠানের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন তিনি।
অবশ্য এর আগেই বুধবারের বৈঠকে চারটি বাম দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) বলছে, জুলাই সনদে সংবিধানের চার মূলনীতি উল্লেখ করা হয়নি।


