প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পী ফারিদা পারভীন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ফারিদা পারভীনকে শুরুর দিকে গুরুতর অবস্থায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল।
তিনি কিডনি রোগ, রক্তে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ কুমার চক্রবর্তী সোমবার রাতে জানান, ফারিদা পারভীন সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে সেরে উঠেছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিডনি বিকল রোগীদের অবস্থা যে কোনো সময় আবারও খারাপ হতে পারে, এটি খুবই অনিশ্চিত।
৭০ বছর বয়সী এই শিল্পী ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীতের মাধ্যমে তার সংগীতজীবন শুরু হয়। ১৯৭০-এর দশকে দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মকসেদ আলী শাহর কাছ থেকে লালনসংগীতের শিক্ষা নিয়ে এ ধারার একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ফারিদা পারভীন একুশে পদক (১৯৮৭), ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজ (২০০৮), এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩)-এ ভূষিত হন। লালনসংগীত সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্দেশে তিনি ‘অচিন পাখি স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি ছোটদের গান শেখান।


