গণমাধ্যম নিয়ে সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে ‘ব্যক্তিগত’, ‘অনিচ্ছাকৃত’ এবং ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি বলেছে, এসব বক্তব্য তাদের আনুষ্ঠানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
রোববার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সই করা বিবৃতিতে এসব কথাই বলা হয়েছে।
সেখানে দুই নেতা বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দৈনিক ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো-এর কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ভিপি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ তথাকথিত ‘সুশীল’ পত্রিকা বন্ধ করার ঘোষণা দেন।
এর পরদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলেন, ‘বাম, শাহবাগি, ছায়ানট, উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে।’
এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসু ভিপি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারির ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংগঠনটি দাবি করে, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত “স্লিপ অব টাং” এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
ছাত্রশিবিরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্ট ঘোষণা করছি, গণমাধ্যম কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে এই ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। অপপ্রচারের ফলে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে আমরা আশা করি।’
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়ে ছাত্রশিবির নেতারা গণমাধ্যম ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।


