চট্টগ্রামে জমেনি কোরবানির হাট, সোমবার থেকে বিক্রি বাড়ার আশা

চট্টগ্রামে জমেনি কোরবানির হাট, সোমবার থেকে বিক্রি বাড়ার আশা
ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঈদুল আজহার আর তিন দিন বাকি থাকলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর পশুর হাটগুলোতে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কোরবানির পশু বেচাকেনা। গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হলেও ভ্যাপসা গরম ও অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রির হার অনেক কম। তবে বিক্রেতারা আশা করছেন, সোমবার থেকে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় এবার মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ৩৫ হাজার ৫২০টি কম।

প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ এবং ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যাপ্ত পশু আসায় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস

ইতোমধ্যে নগরের সাগরিকা গরুর বাজার, মইজ্জারটেক, বাকলিয়া নূর নগর হাউজিং এবং বিবিরহাটসহ বিভিন্ন পশুর হাটে ট্রাকভর্তি গরু এসে পৌঁছেছে। তবে হাটগুলোতে এখন ক্রেতাদের চেয়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি, যারা মূলত বাজারের আকার ও দামের ধারণা নিচ্ছেন।

বাজারে এখন মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে হাটে ছোট আকৃতির দেশি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে, মাঝারি গরুর দাম ২ লাখ থেকে ৪ লাখ এবং বড় আকৃতির গরুর দাম ৪ লাখ থেকে ৮-১০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হাঁকা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

কুমিল্লা থেকে আসা বেপারি আব্দুল করিম জানান, পশুর খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লালন-পালন খরচ অনেক বেড়েছে, তাই দাম কিছুটা বেশি বলতে হচ্ছে। তবে এখনো সেইভাবে বেচাকেনা শুরু হয়নি।

ছবি: জাকির হোসেন/টাইমস

এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান আটকে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায়ের কারণে তারা বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে মাসুদ ফারহান অভি নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, মইজ্জারটেক বাজারে প্রতি গরুতে ৫ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করছে এখানকার সিন্ডিকেট।

পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। প্রথমবারের মতো হাটগুলোতে ড্রোন নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতিটি হাটে সশস্ত্র ১৫ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও গোয়েন্দা দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad