ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কারণে নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী ব্যক্তিরা পরিস্থিতির সুযোগে হামলা চালিয়েছে বলে মনে করে ছায়ানট।
রোববার এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার রাতের হামলা-ভাঙচুর সম্পর্কে নিজেদের ধারণার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী এবং সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসার সই করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওসমান হাদির মর্মান্তিক মৃত্যুজনিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো মহল এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা চলছে। তবে এই নবীন নেতার মৃত্যুর সূত্রে সংস্কৃতি-ভবনে আক্রমণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে ছায়ানট মনে করে না। বরং, বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী ব্যক্তিরা পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করেছে বলেই ধারণা ছায়ানটের।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। এই খবর দেশে পৌঁছতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে হাদির অনুসারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ সেদিন রাতেই ঢাকার প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুনও। একই রাতে হামলার শিকার হয় ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনও।
বিবৃতিতে ছায়ানটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘জন্মাবধি ছায়ানট রাজনীতি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। ছায়ানট বিগত ষাট বছর ধরে সঙ্গীত-সংস্কৃতির অনুশীলন এবং তার প্রসারের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তাকে জাগ্রত করা ও সর্বজনের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে একটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে তোলা ও বজায় রাখার কাজে সচেষ্ট রয়েছে।’
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও উদীচী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কার্যালয়ে ভাঙচুর-আগুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন পরিস্থিতিতেও অনতিবিলম্বে স্বাভাবিক এবং নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে উন্মুখ ছায়ানট। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জরুরি প্রয়োজনের সামগ্রী মেরামত ও সংগ্রহ করার আগে সে কাজ খুবই দুরূহ। এর মধ্যেও ছায়ানট তার নির্ধারিত অনুষ্ঠান আয়োজনে সক্ষম হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
ছায়ানটের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে অনেকে আর্থিক সহায়তার আগ্রহ দেখাচ্ছেন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছায়ানট সবিনয়ে জানাতে চায় যে, এটি স্বনির্ভর স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, একান্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো খাত ছাড়া নিয়মিত কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে অভ্যস্ত নয় ছায়ানট। আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে নিজস্ব বৃহত্তর পরিবারের সংগঠন, প্রাক্তনী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে ছায়ানট এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।‘
এছাড়া ছায়ানটের অবকাঠামোগত সব ক্ষতিপূরণ দিতে সরকার আগ্রহী বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
সব ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যেও বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি চর্চা এবং সঙ্গীত সাধনা ও প্রসারে তার স্থির প্রত্যয়ে যাত্রায় অবিচল থাকার কথাও জানিয়েছে ছায়ানট।


