ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরও প্রাথমিক পর্যায়ে লেনদেনের পরিমাণ সীমিত থাকায় এবার ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনার পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ছোট অঙ্কের বাংলা কিউআর লেনদেনে ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের বাংলা কিউআর লেনদেনে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি শূন্য করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন প্রণোদনা সরাসরি গ্রাহক পাবেন না। তবে ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছোট অঙ্কের বাংলা কিউআর লেনদেনে আর্থিক সুবিধা দেওয়ায় ক্ষুদ্র মার্চেন্ট পর্যায়ে এর বিস্তার বাড়বে এবং গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টের সুযোগ সহজলভ্য হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে ছোট বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে দশমিক ৩ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। এর মধ্যে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে টাকা পরিশোধ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে লেনদেনের দশমিক ২ শতাংশ প্রণোদনা। আর যে ব্যাংক বা পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে দোকানদার টাকা গ্রহণ করবেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে দশমিক ১ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনার অর্থ পরিশোধ করবে।
একই সাতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের সব লেনদেনে সার্ভিস চার্জ শূন্য হবে। ফলে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর কোনো ইন্টারচেঞ্জ ফি বা সার্ভিস চার্জ পাবে না।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট পৃথক দুটি সার্কুলারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এলো, যখন বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরও এর মাধ্যমে লেনদেন এখনো দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারের তুলনায় খুবই সীমিত।
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই লেনদেনের ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবহার বাড়ছিল ধীরগতিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজ করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় নিয়ে আসা এবং একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই প্রণোদনার অপব্যবহার বন্ধে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একটি বড় লেনদেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করে ২ হাজার টাকার সীমার মধ্যে এনে প্রণোদনা নেওয়া যাবে না। কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা, বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ক্যাশ আউট কিংবা অন্য কোনো অপব্যবহার ঠেকানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে দেওয়া প্রণোদনার অর্থ ফেরত নিতে বা ভবিষ্যৎ প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে। পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিতে পারবে।
প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্টের তথ্য, নিষ্পত্তির তথ্য এবং সহায়ক দলিলপত্র পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করতে পারবে।
বাংলা কিউআর মূলত একটি অভিন্ন ও ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এতে একজন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কিউআর কোড রাখতে হয় না। একটি বাংলা কিউআর স্ক্যান করেই অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি মার্চেন্টকে অর্থ পরিশোধ করা যায়।


