ওয়াশিংটন সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি সফরকালে প্রতিমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু ভেপরেকের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সফরকালে তিনি ওয়াশিংটনে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর সভাপতি ড্যানিয়েল টুইনিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে আইআরআইয়ের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র, তরুণদের ক্ষমতায়ন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকেও বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ। সেখানে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরে আটলান্টিক কাউন্সিলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনা বেন-ইয়েহুদার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি সাংবিধানিক গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘু অধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


