যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মরদেহ কীভাবে সরানো যায় তা জানতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন।
রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তদন্তকারীরা একথা জানান।
সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা বে এলাকায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহের খোঁজ চালানোর সময় মানবদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দেহাংশ বৃষ্টির কিনা তা পরীক্ষার পর জানা যাবে। এখান থেকেই এর আগে নিহত জামিল লিমনের দেশের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ইন্টারস্টেট ২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ এলাকার কাছে, সেন্ট পিটার্সবার্গ দিকের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর আশপাশ থেকে দেহাংশগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা দেহাবশেষের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ ঘটনায় হিশাম আবুঘারবিয়েহকে (২৬) শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহত জামিল লিমনের (২৭) রুমমেট ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে পরিকল্পিত দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। লিমনের মরদেহ শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুতে একাধিক কালো ময়লার ব্যাগে পাওয়া যায় এবং তা পচনের দিকে যাচ্ছিল।
আদালত নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল আবুঘারবিয়েহ এআইয়ের কাছে জানতে চান, কাউকে ‘কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হবে?’ এআই চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক বলে সতর্ক করলে তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ‘তারা কীভাবে বিষয়টি জানতে পারবে।’
আরও ডিজিটাল তথ্য থেকে হত্যার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন, তিনি জানতে চান গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন করা যায় কি না এবং লাইসেন্স ছাড়া বাসায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সম্ভব কি না?
১৭ এপ্রিল ভোরের দিকে তিনি হিলসবোরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি তল্লাশি করা হয় কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন। একই রাতে তার মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই সেতু এলাকায় শনাক্ত হয়, যেখানে পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লিমন ও অভিযুক্তের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে ফরেনসিক তদন্তে সহিংসতার আলামত পাওয়া গেছে। একটি বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রবেশদ্বার থেকে রান্নাঘর হয়ে করিডর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য রক্তের দাগ শনাক্ত করেন তদন্তকারীরা।
অভিযুক্তের শোবার ঘরের মেঝেতে মানুষের শরীরের আকারের মতো দুটি আলাদা রক্তের দাগও পাওয়া গেছে।
আদালত নথিতে আরও বলা হয়েছে, আবুঘারবিয়েহর পায়েও একাধিক ক্ষতচিহ্ন ছিল, যা সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে, লিমনের মৃত্যু হয়েছে ‘তীক্ষ্ণ অস্ত্রের একাধিক আঘাতে,’যার মধ্যে ছুরিকাঘাত ও গভীর ক্ষত রয়েছে। ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আবুঘারবিয়েহর পক্ষে একজন সরকারি আইনজীবী নিয়োজিত হয়েছেন। এখনো তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আগামী মঙ্গলবার তাকে আবার আদালতে হাজির করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায় ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে। ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজের খবর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
পরে শুক্রবার ট্যাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা না গেলেও তার ভাই জানান, বৃষ্টি আর বেঁচে নেই।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।


